৯ বছর পর প্রবাসী স্বামীকে পেয়ে বিমান বন্দর থেকে উল্লাসে উপরে উঠে স্বামীর মেরুদণ্ড ভে...See More
World InsiderNews24-
0
8
Loading Full Video
Please wait a moment
### ৯ বছর পর প্রবাসী স্বামীকে পেয়ে বিমানবন্দরে উল্লাসে ঝাঁপ, মুহূর্তেই বদলে গেল সবকিছু
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে দাঁড়িয়ে বারবার ঘড়ি দেখছিল মায়া। তার হাত কাঁপছিল, চোখ ভিজে উঠছিল বারবার। কারণ আজকের দিনটার জন্য সে অপেক্ষা করেছে পুরো নয় বছর।
স্বামী রাকিব সংসারের অভাব ঘোচাতে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি দিয়েছিল। যাওয়ার সময় তাদের বিয়ের বয়স মাত্র ছয় মাস। তখন মায়ার বয়স ছিল উনিশ। যাওয়ার আগে রাকিব বলেছিল,
> “কিছু বছর কষ্ট করো, তারপর এমন সংসার গড়ব, যেখানে আর কোনো অভাব থাকবে না।”
কিন্তু “কিছু বছর” কেমন করে নয় বছরে গড়িয়ে গেল, তা কেউ বুঝতে পারেনি।
এই নয় বছরে মায়া একা হাতে সংসার সামলেছে। শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করেছে। ঈদের দিনগুলো ভিডিও কলে কেটেছে। রাতের পর রাত ফোনের অপেক্ষায় ঘুম ভেঙেছে। তবুও সে বিশ্বাস হারায়নি—একদিন রাকিব ফিরবেই।
সেদিন অবশেষে সেই দিন এল।
আগমন গেট খুলতেই একে একে যাত্রীরা বের হতে লাগল। হঠাৎ দূর থেকে পরিচিত মুখটা দেখতে পেল মায়া। সাদা শার্ট, কালো ট্রলি ব্যাগ, আর মুখভরা হাসি—রাকিব।
মায়া আর নিজেকে সামলাতে পারল না।
“রাকিব!”
চিৎকার করে দৌড়ে গেল সে। কাছে গিয়েই আনন্দে ঝাঁপিয়ে পড়ল স্বামীর বুকে।
রাকিবও দুই হাত বাড়িয়ে ধরতে গিয়েছিল। কিন্তু ট্রলি ব্যাগে পা আটকে দুজনেই ভারসাম্য হারাল।
একটা বিকট শব্দ।
চারপাশে হইচই পড়ে গেল।
রাকিব মাটিতে এমনভাবে পড়েছিল যে তার পিঠের নিচের অংশ জোরে আঘাত পেল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সে ব্যথায় চিৎকার করে উঠল।
“আমার কোমর… আমি উঠতে পারছি না…”
মায়ার মুখের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। সে কাঁদতে কাঁদতে মানুষের সাহায্য চাইতে লাগল।
কয়েক মিনিটের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স এসে রাকিবকে হাসপাতালে নিয়ে গেল।
ডাক্তার পরীক্ষা করে জানালেন, পড়ে যাওয়ার ধাক্কায় তার মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লেগেছে। দীর্ঘ চিকিৎসা আর বিশ্রাম দরকার।
কথাটা শুনে মায়া ভেঙে পড়েছিল।
“নয় বছর পর যে মানুষটাকে জড়িয়ে ধরলাম, সেই আলিঙ্গনই ওর কষ্টের কারণ হয়ে গেল…”
রাকিব তার হাত ধরে মৃদু হেসে বলল,
> “না, দোষ তোমার না। এত বছরের অপেক্ষার আনন্দ কেউ মেপে ধরে রাখতে পারে না।”
এরপর শুরু হলো আরেক যুদ্ধ।
হাসপাতালের বিছানায় রাকিবকে বসতে শেখানো, হাঁটার অনুশীলন করানো, ওষুধ খাওয়ানো—সবকিছুতে ছায়ার মতো পাশে থাকল মায়া।
একদিন ফিজিওথেরাপির সময় রাকিব কষ্ট করে কয়েক পা হাঁটতে পারল। মায়ার চোখে তখন আনন্দের জল।
রাকিব বলল,
> “দেখেছ? এবার আমি আবার তোমার সঙ্গে হাঁটব।”
মায়া হেসে উত্তর দিল,
> “এবার আর দৌড়ে এসে ঝাঁপ দেব না। ধীরে ধীরে হাত ধরেই সারাজীবন হাঁটব।”
নয় বছরের অপেক্ষার পর তাদের জীবন যেভাবে বদলে গিয়েছিল, তবুও তারা বুঝেছিল—ভালোবাসা শুধু আলিঙ্গনে নয়, কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর নামও ভালোবাসা।