### একটুখানি ভালো হলেও ইয়ারই ছেড়েছে ১২ মিনিট
“আর মাত্র ১২ মিনিট...”
মেসেঞ্জারের শেষ ভয়েস মেসেজটা শুনে স্থির হয়ে বসে ছিল মেঘলা। চোখের কোণে পানি জমলেও সে কাঁদছিল না। কারণ কিছু কিছু কষ্ট কান্নার চেয়েও ভারী হয়।
মেঘলা ছিল খুব সাধারণ একটা মেয়ে। বেগুনি রঙের থ্রি-পিস পরতে তার ভীষণ ভালো লাগত। বিকেলের হাওয়ায় চুল উড়িয়ে ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখা ছিল তার অভ্যাস। আর সেই আকাশ দেখার সঙ্গী ছিল একজন— আরিয়ান।
দুই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক। প্রতিদিন সকালে “ঘুম ভাঙছে?” দিয়ে শুরু, রাতে “স্বপ্নে দেখা হবে” বলে শেষ। মনে হতো, পৃথিবী যতই বদলাক, তারা দুজন বদলাবে না।
কিন্তু মানুষ বদলায়।
সেদিন বিকেলে মেঘলা ছাদে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিল। হঠাৎ আরিয়ানের ফোন।
— “কথা আছে।”
গলাটা অচেনা ঠেকছিল।
— “কী হয়েছে?”
— “আমরা আর একসাথে থাকতে পারব না।”
মেঘলার বুক কেঁপে উঠল।
— “মজা করছ?”
— “না। সব শেষ।”
মেঘলা কিছু বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই কল কেটে গেল।
সে আবার ফোন দিল। রিং হলো, কিন্তু ধরল না। আবার দিল। আবার।
তারপর মেসেঞ্জারে শুধু একটা লেখা—
> “ভালো থেকো।”
মেঘলা ভেবেছিল, রাগ করে বলছে। তাই অপেক্ষা করল।
এক মিনিট।
তিন মিনিট।
সাত মিনিট।
সে বারবার লিখছিল—
> “শোনো না... একবার কথা বলো।”
> “আমি কী ভুল করেছি?”
> “রাগ করলে বকা দাও, কিন্তু এভাবে যেও না।”
বারো মিনিট পূর্ণ হতেই আরিয়ানের প্রোফাইল ছবিটা উধাও হয়ে গেল।
তার নিচে ছোট্ট একটা শব্দ—
Blocked.
মেঘলার মনে হলো, বারো মিনিটেই যেন দুই বছরের গল্প শেষ হয়ে গেল।
সেই রাতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকিয়েছিল সে। এক চোখ ঢেকে বলেছিল,
“আমি কি এতটাই খারাপ ছিলাম?”
পরদিন বন্ধুরা বলল, “ভুলে যা।”
কিন্তু ভুলে যাওয়া কি সুইচ বন্ধ করার মতো সহজ?
দিন কেটে গেল।
এক মাস।
তিন মাস।
ছয় মাস।
ধীরে ধীরে মেঘলা নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নিল। পড়াশোনায় মন দিল। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে শুরু করল। হাসিটা আগের মতো না হলেও ফিরতে শুরু করল।
একদিন একটা ক্যাফেতে হঠাৎ আরিয়ানের সঙ্গে দেখা।
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
“কেমন আছ?”
মেঘলা হালকা হেসে বলল,
“ভালো।”
আরিয়ান নিচু গলায় বলল,
“সেদিন যদি আর বারো মিনিট কথা বলতাম... হয়তো সবটা অন্যরকম হতো।”
মেঘলা জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
“না। যে মানুষ থাকতে চায়, সে বারো মিনিটে হারিয়ে যায় না। আর যে চলে যেতে চায়, তার জন্য বারো বছরও কম।”
কথাটা শুনে আরিয়ান আর কিছু বলতে পারেনি।
মেঘলা উঠে চলে গেল।
সেদিন সে বুঝেছিল— জীবনে কিছু মানুষ আসে ভালোবাসা শেখাতে, আর কিছু মানুষ আসে নিজেকে ভালোবাসতে শেখাতে।
শেষ।
loading Video
Please wait a moment
