নানুর বাড়ি যাবে বলে মেয়ে ঘর থেকে বের হয়েছিল মা নিজেও জানে না …See More
World InsiderNews24-
0
8
Loading Secret Video
Please wait a moment
### নানুর বাড়ি যাবে বলে মেয়ে ঘর থেকে বের হয়েছিল, মা নিজেও জানে না মেয়ে তার আপন...
সকালটা ছিল একেবারেই সাধারণ। আকাশে হালকা রোদ, উঠানে শুকাতে দেওয়া কাপড়গুলো বাতাসে দুলছিল। রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে রেহানা বেগম দুপুরের রান্না করছিলেন। এমন সময় তার ষোলো বছরের মেয়ে মায়া এসে বলল,
— “মা, নানুর বাড়ি একটু ঘুরে আসি? বিকেলের আগেই ফিরে আসব।”
রেহানা হেসে বললেন, “যাও মা, কিন্তু ফোনটা সঙ্গে রেখো। পৌঁছে একটা কল দিও।”
মায়া ওড়নাটা ঠিক করে দরজা পেরিয়ে বেরিয়ে গেল। রেহানা জানতেন না, এভাবে দরজা পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যটা সামনে এসে দাঁড়াবে।
### অপেক্ষা
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো। মায়ার ফোন বন্ধ। রেহানা ভাবলেন, হয়তো চার্জ শেষ। সন্ধ্যা নেমে এলেও যখন মেয়ের কোনো খবর নেই, তখন তিনি নানুর বাড়িতে ফোন করলেন।
ওপাশ থেকে উত্তর এল, “মায়া তো আজ এখানে আসেইনি!”
রেহানার বুক কেঁপে উঠল। পুরো গ্রামে খোঁজ শুরু হলো। থানায় খবর দেওয়া হলো। রাতটা যেন শেষই হচ্ছিল না।
### অচেনা এক ফোন
পরদিন সকালে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন এল।
“আপনি কি মায়ার মা?”
“জি, আমি। আমার মেয়ে কোথায়?”
ওপাশের কণ্ঠ বলল, “ভয় পাবেন না। মেয়েটা নিরাপদে আছে। তবে একটা বিষয় আছে, যেটা আপনার জানা দরকার।”
রেহানা ছুটে গেলেন শহরের একটি ছোট এনজিও অফিসে।
### সত্যের মুখোমুখি
সেখানে গিয়ে দেখলেন, মায়া চুপচাপ বসে আছে। তার পাশে দাঁড়িয়ে একজন বৃদ্ধা মহিলা— চোখে জল।
মহিলা কাঁপা গলায় বললেন,
“আমি শেফালী। মায়া... আমার নাতনি।”
রেহানা বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলেন।
“কী বলছেন?”
শেফালী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
“ষোলো বছর আগে হাসপাতালের সেই রাতে তুমি যে সন্তানকে জন্ম দিয়েছিলে, সে বাঁচেনি। তোমার স্বামী তখন ভেঙে পড়েছিল। আর আমার মেয়ে প্রসবের পর মারা যায়। তার রেখে যাওয়া এই শিশুটাকে বাঁচানোর জন্য হাসপাতালের কয়েকজনের সহযোগিতায় তোমাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তোমাকে বলা হয়েছিল— এটাই তোমার সন্তান।”
রেহানার পৃথিবী যেন থেমে গেল।
### মায়ার জানা
মায়া মাথা নিচু করে বলল,
“মা, আমি কয়েক দিন আগে পুরোনো একটা ফাইল পেয়েছিলাম। সেখানে হাসপাতালের কাগজে আমার জন্মতারিখ আর কিছু নাম মিলছিল না। তাই সত্যটা জানতে বেরিয়েছিলাম।”
রেহানা কাঁদতে কাঁদতে মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন।
“তুই যদি আমার গর্ভের না-ও হোস, তুই আমার বুকের। তোর প্রথম হাঁটা, প্রথম কথা বলা, প্রথম জ্বরের রাত— সব তো আমি দেখেছি।”
মায়ার চোখও ভিজে গেল।
“মা, আমি তো তোমাকেই মা বলেই বড় হয়েছি।”
### আরেকটি সম্পর্ক
শেফালী এগিয়ে এসে বললেন,
“আমি তোমার কাছ থেকে মায়াকে কেড়ে নিতে আসিনি। শুধু জীবনের শেষ সময়ে নাতনিটাকে একবার কাছে পেতে চেয়েছিলাম।”
রেহানা তার হাত ধরলেন।
“মায়ার দুইটা মা নেই, কিন্তু দুইটা পরিবার আছে।”
### শেষ দৃশ্য
কয়েক মাস পর গ্রামের মানুষ প্রায়ই দেখত— মায়া একদিন মায়ের সঙ্গে বাজারে যাচ্ছে, আরেকদিন শেফালী নানুর হাত ধরে বিকেলে হাঁটছে।
সেদিন সবাই বুঝেছিল, রক্তের সম্পর্ক মানুষকে জন্ম দেয়, কিন্তু ভালোবাসার সম্পর্ক মানুষকে বড় করে।
আর রেহানা প্রায়ই হাসতে হাসতে বলতেন,
“সেদিন মেয়ে বলেছিল নানুর বাড়ি যাবে। আমি জানতাম না, সেই পথেই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যটা ফিরে আসবে।”