"একটা ভাইরাল পোস্ট, আর ভেঙে যাওয়া একটা জীবন"
রাত তখন প্রায় ১১টা। হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল একটি পোস্ট— "এক তরুণীর গোপন ভিডিও ভাইরাল, লিংক
"একটা ভাইরাল পোস্ট, আর ভেঙে যাওয়া একটা জীবন"
রাত তখন প্রায় ১১টা। হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল একটি পোস্ট— "এক তরুণীর গোপন ভিডিও ভাইরাল, লিংক কমেন্টে!"
কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ পোস্টটিতে ভিড় জমাল। কেউ না জেনেই শেয়ার করল, কেউ কৌতূহল থেকে কমেন্ট করল, আবার কেউ লিংক খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
কিন্তু কেউ একবারও ভাবল না— এই পোস্টের আড়ালে যদি একজন নির্দোষ মানুষের জীবন লুকিয়ে থাকে?
গল্পের নায়িকা নীলা। সাধারণ এক কলেজছাত্রী। পরিবারের স্বপ্ন, নিজের স্বপ্ন— সবকিছু নিয়েই সে এগিয়ে যাচ্ছিল। এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখল, তার ছবি ব্যবহার করে অসংখ্য ভুয়া পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও লেখা "ভিডিও ভাইরাল", কোথাও "লিংক ইনবক্সে", কোথাও আবার "কমেন্টে দেখুন"।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো— কোনো ভিডিওই ছিল না।
ছিল শুধু ক্লিক পাওয়ার লোভে বানানো মিথ্যা প্রচারণা।
বন্ধুরা ফোন করছে, আত্মীয়রা প্রশ্ন করছে, পাড়ায় ফিসফাস শুরু হয়েছে। নীলা যতই বলুক এগুলো মিথ্যা, ততই যেন গুজব ছড়াতে লাগল। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় সত্যের চেয়ে মিথ্যা অনেক সময় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
কয়েকদিন পর বিষয়টি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের নজরে আসে। তদন্তে জানা যায়, কিছু ভুয়া পেজ অন্যের ছবি ব্যবহার করে "ভাইরাল ভিডিও"র প্রলোভন দেখিয়ে ভিউ আর ফলোয়ার বাড়াচ্ছিল। ভিডিওর নামে মানুষকে অন্য লিংকে পাঠিয়ে প্রতারণাও করা হচ্ছিল।
ধীরে ধীরে সেই পেজগুলো বন্ধ হয়ে যায়।
কিন্তু নীলার হারিয়ে যাওয়া মানসিক শান্তি কি এত সহজে ফিরে আসে?
এই গল্প আমাদের একটা কথাই মনে করিয়ে দেয়— ইন্টারনেটে যা দেখি, তার সবকিছু সত্য নয়। কারও ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা গল্প বানানো, গুজব ছড়ানো বা "লিংক কমেন্টে" লিখে মানুষের কৌতূহলকে কাজে লাগানো শুধু অনৈতিকই নয়, একজন মানুষের জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই শেয়ার করার আগে একবার ভাবুন।
একটা ক্লিক হয়তো আপনার কাছে তুচ্ছ, কিন্তু অন্য কারও জীবনে সেটাই বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
Loading Video Link
Please wait a moment
