বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়েছে তাই মশারি টানাতে যাচ্ছিলাম হঠাৎ মশারির উপরে তাকিয়ে দেখি…See More

বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়েছে…

রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। বাচ্চারা দুজনই গভীর ঘুমে চোখ বন্ধ করে আছে। ছোট্টার মুখে একটু হাসি খেলা করছে, বড়টা পাশ ফিরে শুয়ে আছে। ঘরটা নীরব। শুধু পাখাটা আস্তে আস্তে ঘুরছে। আমি মশারি টানাতে উঠলাম। ঘরের মেইন বাতিটা আগেই নিভিয়ে দিয়েছিলাম, শুধু জানালার পাশের ছোট্ট এলইডিটা জ্বলছিল। আলোটা এতটাই ম্লান যে সবকিছু একটু অস্পষ্ট দেখাচ্ছিল।

মশারি ধরে টেনে ওপরে তোলার সময় হঠাৎ আমার চোখ চলে গেল মশারির উপরের দিকে।

সেখানে… কিছু একটা আছে।

প্রথমে মনে হলো মশারির ভাঁজে ছায়া পড়েছে। কিন্তু ছায়া নড়ছে না। স্থির। আর সেই স্থিরতার মধ্যেই একজোড়া চোখ। লালচে, জ্বলজ্বলে। আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখদুটো এতটাই স্পষ্ট যে মনে হচ্ছিল কেউ খুব কাছে থেকে তাকিয়ে আছে।

আমি একটু পিছিয়ে গেলাম। গলা শুকিয়ে গেল। বুকের ভেতরটা ধকধক করতে লাগল। আমি চোখ কচলিয়ে আবার তাকালাম। চোখদুটো এখনো আছে। পলক ফেলছে না। শুধু তাকিয়ে আছে।

তারপর ধীরে ধীরে মশারির কাপড়টা যেন ভেতর থেকে ফুলে উঠতে শুরু করল। যেন কেউ ভেতরে ঢুকে আছে। কিন্তু বাচ্চারা তো দুজনই নিচে ঘুমাচ্ছে… আমি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে এক পা এগিয়ে গেলাম। মশারির কাপড়টা এখন আরও বেশি ফুলে উঠেছে। যেন কেউ ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে।

আমি সাহস করে হাত বাড়িয়ে মোবাইলের ফ্ল্যাশটা জ্বালালাম।

আলো পড়তেই দেখলাম—

মশারির ভেতরে, বাচ্চাদের মাথার ঠিক উপরে, একটা কালো ছায়া উল্টো দিকে ঝুলে আছে। পা দুটো উপরে, মাথা নিচে। চুলগুলো লম্বা, ঘন কালো, মেঝে ছুঁয়ে আছে প্রায়। আর সেই লাল চোখদুটো আমার চোখের দিকেই তাকিয়ে। মুখটা বিকৃত, যেন কেউ জোর করে হাসাচ্ছে।

হঠাৎ সেই ছায়াটা হাঁসতে শুরু করল। শব্দহীন হাসি। শুধু মুখটা আরও বেশি খুলে গেল। দাঁতগুলো সাদা সাদা দেখা যাচ্ছে। আমি ভয়ে পিছিয়ে গেলাম। পা পিছলে প্রায় পড়েই গিয়েছিলাম।

আমি চিৎকার করে উঠলাম।

“কে… কে আছে?!”

বাচ্চারা জেগে উঠল। ছোট্টা কেঁদে উঠল। আমি দ্রুত আলো জ্বালালাম। মশারি খুলে ফেললাম। হাত দিয়ে মশারির ভেতরটা নাড়াচাড়া করলাম।

কিছু নেই।

বাচ্চাদের জড়িয়ে ধরে বসলাম। আমার হাত কাঁপছে। ঘামে শরীর ভিজে গেছে। বাচ্চারা জিজ্ঞেস করছে, “মা/বাবা, কী হয়েছে?” আমি কিছু বলতে পারলাম না। শুধু বললাম, “কিছু না… ঘুমাও।”

রাতটা আর ঘুমালাম না। সারা রাত আলোটা জ্বালিয়ে রেখেছিলাম। প্রতিবার চোখ বন্ধ করতে গেলেই সেই লাল চোখদুটো মনে পড়ছিল।

পরের দিন সকালে যখন মশারিটা গুটিয়ে রাখতে গেলাম, উপরের কোণায় দেখতে পেলাম—লম্বা কালো চুলের কয়েকটা আঁশ। চুলগুলো সামান্য নড়ছে, যেন বাতাসে দোল খাচ্ছে। অথচ ঘরে কোনো বাতাস নেই।

আমি সেই চুলগুলো হাত দিয়ে সরাতে গেলাম। সরল না। যেন মশারির সঙ্গে লেগে আছে।

যেন কেউ এখনো সেখানেই আছে… অপেক্ষা করছে।

Connecting to our partner page

Please wait a moment

Post a Comment

Previous Post Next Post