আবারও বাড়লো গ্যাসের দাম! গ্রাহকদের ওপর নতুন চাপ

১২ কেজি এলপিজির দাম ২,৫০০ টাকা! বাজারে তীব্র চাপ, ভোক্তাদের ক্ষোভ

Connecting to our partner page

Please wait a moment

আজকের খবর | ১ অক্টোবর ২০২৬
সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি দামে ১২ কেজি এলপিজি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও একটি সিলিন্ডারের জন্য ২,৩০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
১২ কেজি এলপিজির দাম ২৫০০ টাকা

দেশের বাজারে রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম নিয়ে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ থেকে প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১,৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে ভোক্তাদের অভিযোগ।

বাজারে ১২ কেজি এলপিজির দাম ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত

সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতাকে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার টাকার বেশি দিতে হচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় দাম আরও বেড়ে ২,৩০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অর্থাৎ সরকার নির্ধারিত ১,৫৮৫ টাকার তুলনায় ২,৫০০ টাকা দামে একটি সিলিন্ডার কিনলে একজন ভোক্তাকে অতিরিক্ত ৯১৫ টাকা দিতে হচ্ছে। ফলে মাসিক রান্নার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে সাধারণ পরিবারের।

দামের তুলনা

সরকার নির্ধারিত দাম: ১,৫৮৫ টাকা

বাজারে অভিযোগ করা সর্বোচ্চ দাম: প্রায় ২,৫০০ টাকা

অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে: প্রায় ৯১৫ টাকা

কেন বাড়ছে এলপিজির বাজারদর?

এলপিজির দাম বাড়ার পেছনে সরবরাহ, আমদানি ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারের দাম এবং পরিবহন ও বিতরণ ব্যবস্থার বিভিন্ন খরচের প্রভাব থাকে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কিছু এলাকায় কেন বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ব্যবসায়ীদের একটি অংশের দাবি, তারা বেশি দামে এলপিজি সংগ্রহ করছেন বলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে।

সরকার কী বলছে?

এলপিজি নিয়ে সাম্প্রতিক অভিযোগের পর সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে সামগ্রিকভাবে এলপিজির সরবরাহ ঘাটতি নেই। তবে কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হবে।

একই সঙ্গে অতিরিক্ত দামে বিক্রি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

শহর ও গ্যাস-লাইন সুবিধাবঞ্চিত এলাকার অসংখ্য পরিবার রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। তাই একটি সিলিন্ডারের দাম কয়েকশ টাকা বেড়ে গেলে সরাসরি বাড়তি চাপ পড়ে পারিবারিক বাজেটে।

বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে মাসিক আয় থেকে অতিরিক্ত অর্থ জোগাড় করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ছোট রেস্টুরেন্ট, হোটেল ও খাবারের দোকানগুলোর রান্নার খরচও বেড়ে যেতে পারে।

এলপিজির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে এর প্রভাব খাবার ও অন্যান্য পণ্যের দামেও পড়তে পারে বলে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

১,৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার কেন ২,৫০০ টাকায়?

এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের এলপিজির দাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিবেচনা করে খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে।

সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত দাম ছিল ১,৫৮৫ টাকা। কিন্তু খুচরা বাজারে সরবরাহ সংকট, পরিবেশক ও ডিলার পর্যায়ের মূল্য এবং অন্যান্য বাজার পরিস্থিতির কারণে অনেক জায়গায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ফলে সরকার নির্ধারিত দাম এবং বাস্তবে ভোক্তার কাছ থেকে নেওয়া দামের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

এলপিজি কেনার সময় সিলিন্ডারের দাম সম্পর্কে বিক্রেতার কাছে পরিষ্কারভাবে জানতে হবে। অস্বাভাবিক বেশি দাম নেওয়া হলে রসিদ বা অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সামনে কী হতে পারে?

বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরবরাহ বাড়ানো, অতিরিক্ত দামের অভিযোগ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে বিইআরসির পরবর্তী মাসের মূল্য নির্ধারণের দিকেও নজর রাখছেন ভোক্তারা। অক্টোবর মাসের নতুন সরকারি মূল্য ঘোষণা হলে বাজারে তার প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

শেষ কথা

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারে বাস্তবে নেওয়া দামের বড় পার্থক্য সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্ধারিত দামে এলপিজি নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।

পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে এলপিজির দাম ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে।

Tags: LPG Price Bangladesh, LPG Price Today, 12kg LPG Price, এলপিজির দাম, ১২ কেজি এলপিজি, গ্যাসের দাম, আজকের খবর, বাংলাদেশ LPG বাজার, LPG Cylinder Price

Post a Comment

Previous Post Next Post