স্বামী-স্ত্রী একসাথে ট্রেনে উঠেছিল…
ট্রেনটা ছেড়েছে ঠিক সময়মতো। কামরায় ভিড় কম। জানালার পাশে বসেছিল অনিক আর রুপা খাতুন। দুজনের হাত জোড়া লাগানো। অনিকের আঙুলে বিয়ের আংটিটা চকচক করছিল। রুপার মাথায় হালকা ওড়না। চোখে একটা অদ্ভুত নীরবতা।
অনিক হাত চেপে ধরে বলল, “এবার সব ঠিক হয়ে যাবে। নতুন শহরে গিয়ে নতুন করে শুরু করব। তুমি আর ভাবিও না পুরোনো কথা।”
রুপা কিছু বলল না। শুধু জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। গাছপালা দ্রুত পেছনে সরে যাচ্ছে। মনে হচ্ছিল সময়ও তেমনই পেছনে ফেলে যাচ্ছে সবকিছু।
হঠাৎ ট্রেনটা একটা স্টেশনে থামল। যাত্রী নামছে, উঠছে। অনিক মোবাইলে তাকিয়েছিল। রুপা আস্তে করে হাত সরিয়ে নিল। অনিক খেয়ালই করল না।
পরের মুহূর্তেই রুপা উঠে দাঁড়াল। অনিক অবাক হয়ে তাকাল।
“কোথায় যাচ্ছ?”
রুপা পেছন ফিরে তাকাল না। দ্রুত পায়ের জোরে দরজার দিকে এগোতে লাগল। অনিক চিৎকার করে উঠল, “রুপা! রুপা খাতুন!”
কিন্তু রুপা থামল না। হাত থেকে ছুটে বেরিয়ে গেল ট্রেনের দরজা দিয়ে। প্ল্যাটফর্মে নেমে দৌড় দিল। অনিক লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করল, কিন্তু ট্রেনটা তখনই ছেড়ে দিয়েছে। হুইসেল বেজে উঠল।
অনিক জানালা দিয়ে মাথা বের করে চিৎকার করতে লাগল, “রুপা রে! ফিরে আয়!”
কিন্তু রুপা প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত দৌড়ে গিয়ে একটা পুরোনো গাছের আড়ালে গিয়ে দাঁড়াল। নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে পেছন ফিরে তাকাল। ট্রেনটা ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। অনিকের চিৎকার আর শোনা যাচ্ছে না।
রুপার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। পাঁচ বছরের সংসার। কত কথা, কত প্রতিশ্রুতি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব ভেঙে গেল। অনিকের চাকরি চলে যাওয়া, বাড়িতে ঋণের চাপ, আর রুপার ওপর সন্দেহ—সব মিলিয়ে ঘরটা নরকে পরিণত হয়েছিল। রুপা আর সহ্য করতে পারেনি।
সে জানত, আজ যদি না ছুটে যায়, তাহলে আর কখনো পারবে না। তাই ট্রেনে উঠেছিল শুধু অনিককে শেষবার দেখার জন্য। আর হাত থেকে ছুটে গিয়েছিল চিরতরে।
সন্ধ্যা নামতেই রুপা একটা বাসে উঠে দূরের শহরের দিকে রওনা দিল। হাতে শুধু একটা ছোট ব্যাগ। ব্যাগের ভেতর কয়েকটা কাপড় আর একটা পুরোনো ছবি—অনিকের সঙ্গে বিয়ের দিনের।
ট্রেনে
Connecting to our partner page
Please wait a moment
